বেতাগীতে পূর্নিমার জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে কৃষকের স্বপ্ন

প্রকাশ: 5 April, 2021 4:03 : PM

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি: উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগীতে পূর্নিমার জোয়ারের পানিতে তরমুজ ক্ষেত নষ্ঠ হয়েছে। পানিতে তরমুজ গাছ পঁচে গেছে। হঠাৎ পানি উঠে ৪০ একর তরমুজ নষ্ঠ হওয়ায় এতে চাষীরা হতাশ ও সর্বস্বান্ত।

জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের রানীপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক ও সহিদুর রহমান পুটিয়াখালী গ্রামের নদী তীরবর্তী এলাকার প্রায় ৪০ একর জমির উপর তরমুজ ও ফুট চাষ করে। ফলনও মোটামোটি ভালো হয়েছিল। আর দুই/তিন সপ্তাহ পরে তরমুজ বিক্রি করার উপযুক্ত হতো। গত ২৮ মার্চ পূর্নিমায় জোয়ার পানি মাঠে প্রবেশ করে। এরপর ৪/৫ দিন পরে ওই তরমুজ শুকিয়ে যায় এবং পাতা ঝড়ে যায়। সমস্ত মাঠ জুড়ে পরে থাকে অপরিপক্ক তরমুজ। ওই তরমুজ পরিপূর্নতা না হওয়ায় প্চে গেছে। পঁচে ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে কৃষকের স্বপ্ন তছনছ হয়ে গেছে।আশায় বুক বেধে ওই কৃষকরা তাদের জমানো সবটুকু পুঁজি বিনিয়োগ করেছিলো। এছাড়া তরমুজ চাষী আব্দুর রাজ্জাক ও সহিদুর রহমান দারদেনা ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করায় বিপাকে পড়েছে। আজ দুপুরে (৫ এপ্রিল) সরেজমিনে তাঁদের তরমুজ ক্ষেতের ছবি ও তথ্য আনতে গেলে একপর্যয় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন আব্দুর রাজ্জাক।

এতে নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে ঐ ২ জন কৃষক। সর্বস্ব হারিয়ে চরম হতাশার ছাপ তাদের চোখে মুখে। কপালে পড়েছে ঋণের বোঝার চিন্তার ভাজ। কৃষকই ঋণ করে ফসল ফলিয়েছেন। কিন্তু এত কষ্টের ফসল পানিতে নষ্ট হওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে ওই দুই কৃষক ও তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট ৫০ জন শ্রমিক।

কৃষক আব্দুর রজ্জাক জানায়,’প্রতি একর জমিতে বীজ, সার, সেচ, ঔষধ ও শ্রমিক খরচসহ খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকারও বেশি। ফসল ভালো হওয়ায় একর প্রতি উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিলো লক্ষাধিক টাকা। ফসলের শুরুটা খুব ভালো হওয়ায় তারা ভেবেছিলো করোনায় কর্ম না থাকলেও স্থানীয় বাজারে ফসল বিক্রি করে কষ্টের দিনগুলোতে দু’মুঠো আহারের ব্যবস্থা হবে। কারো কাছে হাত পাততে হবে না। ‘

কৃষক সহিদুর রহমান জানায়,’ রাজ্জাক আমার বড় ভাই, আমরা দুই ভাই মিলে দারদেনা করে এবং স্থানীয় কয়েকটা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তরমুজ চাষ করি। হঠাৎ মাঠে পানি উঠায় ফসল নষ্ট হয়েছে। তবে সরকার আমাদের সহযোগিতা করা দরকার। ‘

এ ব্যপারে বেতাগী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন মজুমদার বলেন, ‘ পুটিয়াখালী গ্রামের নদীর তীর এলাকার ক্ষতি হওয়া ফুড তরমুজের মাঠ পরিদর্শন করা ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সাধ্যমত বীজ ও সার দিয়ে সহায়তা করা হবে।’