হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় সাবিনাকে!

প্রকাশ: 22 November, 2020 7:13 : PM

বরিশালে বাসে থাকা ড্রাম থেকে তিন সন্তানের জননী সাবিনা বেগমের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত রহিমা বেগম গৌরনদী উপজেলার ভীমের পার গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল খালেকের স্ত্রী।

রোববার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করে থানার ওসি আফজাল হোসেন জানান, রহিমা বেগমকে কোন জায়গা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তা তদন্তের স্বার্থে পরবর্তীতে বলবো। তবে হত্যাকান্ডটি সংঘঠিত হয়েছে বরিশাল নগরীর কাশিপুরে। সেখানকার ভূঁইয়া বাড়ি এলাকার নির্মানাধীন একটি বাড়িতে এই হত্যাকান্ড ঘটনা হয়। এরপর ড্রামে লাশ ভরে তা বাসে করে ভুরঘাটা আনা হয়। বর্তমানে এর বেশি বিস্তারিত পরবর্তীতে জানানো হবে।

তবে তাকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত হাতুড়ি ও রশি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

এদিকে নিহতের দেবর ও প্রবাসী শহিদুল ইসলামের ছোট ভাই মনির হাওলাদার জানান, তার ভাই-ভাবীর মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার জন্য গৌরনদীর মাহিলাড়া এলাকার খালেক বেশ কিছুদিন আগে ৪ লাখ টাকা দেয়। বিলম্ব হওয়ায় খালেক বিদেশে যেতে অসম্মতি জানালে সাবিনা সম্প্রতি তাকে (খালেক) দেড় লাখ টাকা ফেরত দেয়। শুক্রবার সকালে দুই সন্তান নিয়ে নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গৌরনদীর দিয়াসুরের বাড়ি আসে তার ভাবী। সকাল ১০টার দিকে খালেক হাওলাদার ডাকছে বলে বরিশাল যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় সাবিনা। সারা দিনেও সে বাড়ি না ফেরায় বাড়ির লোকজন চিন্তিত হয়ে পরে। ওই রাতে ভুরঘাটা বাসস্ট্যান্ডে একটি বাসে থাকা ব্যারেলের মধ্য থেকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে সাবিনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর তার আঙুলের ছাপ মিলিয়ে সাবিনার পরিচয় সনাক্ত করেন গৌরনদী থানা পুলিশ।

প্রসঙ্গত, মৃত সাবিনা বেগম (৩০) বরিশালের মুলাদী উপজেলার নাজিরপুরের বাসিন্দা সাহেব আলীর মেয়ে এবং কুয়েত প্রবাসী শহিদুল ইসলামের স্ত্রী। সে তিন সন্তান নিয়ে নারায়নগঞ্জের ফতুল্লায় ভাড়টিয়া বাসায় বসবাস করতেন। শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে সে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার দিয়াসুরে শ্বশুড় বাড়িতে আসেন। সেখানে শ্বাশুড়ির কাছে বাচ্চাদের রেখে তিনি বরিশালে যান।