বিএম কলেজে হামলা: ঘটনা আড়াল করতেই ‘মুখোশধারী’ নাটক

প্রকাশ: 19 September, 2020 3:01 : PM

বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের সমাজকল্যাণ বিভাগে হামলাকারীদের কেউই মুখোশধারী ছিল না। আসল ঘটনা আড়াল করতেই এই ‘মুখোশধারী’ নাটক সাজানো হয়েছে। যুগান্তরের কাছে এমন দাবি করেছেন ৭-৮ জন প্রত্যক্ষদর্শী।

তারা বলছেন, নিজেদের বাঁচাতে এবং অদৃশ্য চাপের কারণে কলেজ প্রশাসন শুরু থেকেই ‘মুখোশধারী’ শব্দ ব্যবহার করছে। তাছাড়া ওই হামলায় আহত কম্পিউটার অপারেটর মিজানুর রহমান বাচ্চু সবাইকে চিনেও না চেনার মতো কথা বলছেন অদৃশ্য কারণে। হামলার ঘটনায় তিনি অজ্ঞাতপরিচয় ২০-২৫ জনকে আসামি করে মামলা করলেও কলেজ প্রশাসন শুধু তদন্ত কমিটি গঠন করেই ক্ষান্ত রয়েছে। কলেজ প্রশাসন বলছে, থানায় তারাও একটি এজাহার দিয়েছে। সেই এজাহার এবং আহত বাচ্চুর দেয়া এজাহার এক হওয়ায় থানা পুলিশ বাচ্চুর এজাহারটিই গ্রহণ করেছে।

সাবেক এক শিক্ষক নেতা বলেন, এই হামলা কারা করেছে তা খুব ভালো করেই জানে কলেজ প্রশাসন। কিন্তু কেউ মুখ খুলছে না। কেননা যারা হামলা চালিয়েছে তাদের শেল্টারেই চলেন বর্তমান শিক্ষক পরিষদের নেতারা।

বিএম কলেজের সমাজকল্যাণ বিভাগের একজন স্টাফ জানান, যারা হামলা চালিয়েছে তাদের কারো মুখেই ‘মুখোশ’ ছিল না। বিষয়টি আড়াল করতেই ‘মুখোশধারী’ নাটক সাজানো হয়েছে। রাজনৈতিক কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকেই ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠে ন্যক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি নুরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বসহকারে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় কাউকে আটক বা চিহ্নিত করা যায়নি এখনও। তবে শিগগিরই ভালো ফলাফল আসবে। তাছাড়া কলেজ প্রশাসনের দেয়া কোনো এজাহার আমরা পাইনি। আহতের দেয়া এজাহার মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সরকারি বিএম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. গোলাম কিবরিয়া বলেন, আমরা থানায় এজাহার পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু আহত বাচ্চুর দেয়া এজাহার আর আমাদের দেয়া এজাহার এক হওয়ায় পুলিশ একটি এজাহার গ্রহণ করেছে।

১৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ওই হামলায় পুরো সমাজকল্যাণ বিভাগ লণ্ডভণ্ড করে সন্ত্রাসীরা। কুপিয়ে জখম করা হয় কম্পিউটার অপারেটর মিজানুর রহমান বাচ্চুকে।

আরও পড়ুন: ***বিএম কলেজে মুখোশধারীদের হামলা, লন্ডভন্ড সমাজকল্যান বিভাগ

***‌বিএম ক‌লে‌জে হামলার ঘটনায় মামলা, তদন্ত ক‌মি‌টি গঠন

সুত্র:যুগান্তর