বরিশালে শিক্ষককে মারধর করে কান ধরে ওঠ-বস করালো ছাত্ররা

প্রকাশ: 13 September, 2020 10:50 : PM

বরিশালে এক শিক্ষককে কান ধরে ওঠ-বস করানোর ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

রোববার ফেসবুকে এই ভিডিও ভাইরাল হয়। তবে জানা গেছে ঘটনাটি ১ মাস পূর্বের।

ভিডিওতে ভাইরাল হওয়া শিক্ষক মিজানুর রহমান সজল বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের আয়লা গ্রামের বাসিন্দা। সে ২০১৫ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত নগরীর রুপাতলীস্থ জম জম ইনস্টিটিউটে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে তিনি পটুয়াখালী সহ কয়েকটি স্থানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সর্বশেষ করোনাকালে তিনি পুনরায় জম জম ইনস্টিটিউটে অনলাইনে মেডিকেল ডিপ্লোমার কয়েকটি ক্লাস নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন ওই প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদুল হক। তবে তাকে পরবর্তী ক্লাস নেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ছাত্রীকে বেশি নম্বর পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভনে অনৈতিক প্রস্তাব দেব না শপথ করে সাবেক ওই শিক্ষককে কান ধরে-ওঠ-বস করানো হচ্ছে। ভিডিওতে কয়েকজনের কণ্ঠস্বর শোনা গেলেও কাউকে দেখা যায়নি। তবে বোরকা পরিহিত এক ছাত্রীকে দেখা গেলেও তার মুখমন্ডল দেখা যায়নি।

এই বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষক মিজানুর রহমান সজল বলেন, জমজম ইনস্টিটিউটের রূপাতলী শাখায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলাম। মেডিকেল টেকনোলজি কোর্সসহ স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সম্পর্কিত নানা কোর্স ইনস্টিটিউটে পড়ানো হয়। আমি ম্যাটস বিভাগের শিক্ষক ছিলাম। ২০১৮ সালে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরি ছেড়ে দেই। তবে করোনাকালে মার্চ মাসে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে অনলাইনে ৮-১০টি ক্লাস নিয়েছিলাম। ওই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। এর মধ্যে মোঃ ইমন ও তার স্ত্রী মনিরা ছিল। তারা ক্লাস ফাঁকি ও লেখাপড়ায় অমনোযোগী ছিল। তাদের লেখাপড়ায় মনোযোগ দিতে বলা হয়। কিন্তু তারা কর্ণপাত না করে উল্টো পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাইয়ে দিতে নানা সময় তাদের বহিরাগত বন্ধুদের দিয়ে চাপ দিয়ে আসছিল। পাশাপাশি ইমন আমাকে কখনও সালাম দিতো না। এ নিয়ে ইনস্টিটিউটের কয়েকজন ছাত্র ইমনকে ভর্ৎসনা করেছিল। তবে সালাম না দেয়া নিয়ে আমার মাথাব্যথা ছিল না। তারপরও ইমন আমার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। এসব কারণে ২৬ আগস্ট হাতেম আলী কলেজ সংলগ্ন এলাকায় ইমন ও তার ৬-৭ জন বন্ধু আমার পথরোধ করে। এরপর তারা আমার মুঠোফোন ও মোটরসাকেলের চাবি নিয়ে যায়। সেখান থেকে আমাকে তারা জোর করে অক্সফোর্ড মিশন রোড এলাকায় নিয়ে যায়। এরপর আমাকে সেখান থেকে গোরস্থান রোডে নিয়ে মারধর করে তারা। এই সময় ইমনের সঙ্গে ৬-৭ জন যুবক ছিল। একজনের হাতে লাঠি ছিল। তাদের কিল-ঘুষিতে আমার নাক ফেটে যায়। মারধরের একপর্যায়ে ইমন আমাকে কান ধরে ওঠ-বস করায়। এরপর ইমন আমাকে কিছু কথা বলতে বাধ্য করে। সেগুলো একজন মুঠোফোনে ধারণ করে।

জমজম ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদুল হক জানান, আমাদের সাবেক এই শিক্ষককে নগরীর কোনো একটি জায়গায় তুলে নিয়ে কয়েকজন ছাত্র তাকে নির্যাতন করে এবং কান ধরে উঠবস করা হয়। ঘটনাটি ১ মাস পূর্বে ঘটলেও ৪/৫ দিন আগে ভিডিওটি আমি দেখেছি। এরপর শিক্ষক সজলের সাথে কথা বললে সে জানায় তিনি নির্দোশ। তবে আমার যেটা ধারণা শুধু শুধু তো এমন ঘটনা ঘটতে পারে না। শিক্ষক ও ছাত্রদের দ্বন্দের সূত্রপাত ধরেই এই ঘটনা ঘটেছে।