পরামর্শকসহ ৭ খাতে প্রশ্নবিদ্ধ ব্যয় প্রস্তাব

প্রকাশ: 13 September, 2020 12:11 : PM

দরিদ্র মহিলাদের সমন্বিত পল্লী কর্মসংস্থানে সহায়তা দিতে দ্বিতীয় পর্যায়ে একটি প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ। ৩৬৪ কোটি ৯১ লাখ টাকার এ প্রকল্পে পরামর্শকসহ ৭ খাতে ব্যয় প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন তুলতে যাচ্ছে পরিকল্পনা কমিশন। এগুলোর বেশির ভাগই বাদ দেয়ার সুপারিশ দেয়া হতে পারে। ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটি নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে পিইসি (প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি) সভা।

সেখানেই প্রশ্নবিদ্ধ এসব ব্যয় প্রস্তাব নিয়ে জেরার মুখে পড়তে যাচ্ছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। প্রক্রিয়াকরণ শেষে অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)।

এ প্রসঙ্গে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের যুগ্ম সচিব (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) আশরাফ উদ্দিন আহাম্মদ খান শনিবার  বলেন, আমার মা মারা গেছেন। তাই বিস্তারিত বলতে পারছি না। তবে এসব ব্যয় প্রস্তাব শুধু ডিপিপিতেই (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) থাকবে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়া যাবে না। আমরা এখন ব্যয় সাশ্রয় করতে চলমান প্রকল্পেই ঋণ বিতরণ এবং আবশ্যকীয় কার্যক্রম ছাড়া আসবাবপত্রসহ অন্যান্য কোনো ব্যয়ই করছি না। তাহলে প্রস্তাব দেয়ার কারণ কী? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামী দিনে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হলে তখন হয়তো এসব খাতে ব্যয় করা হতে পারে। এখন ডিপিতে না রাখলে পরবর্তী সময়ে ঢুকানো সমস্যা হয়ে যায়।

১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় পিইসি সভার কার্যপত্রে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পে দুইজন পরামর্শক বাবদ ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু পরামর্শকের কর্মপরিধি, যোগ্যতা ইত্যাদির উল্লেখ নেই। এছাড়া এ প্রকল্পের জন্য পরামর্শকের প্রয়োজনীয়তা প্রতীয়মান হয় না। এ অবস্থায় পরামর্শক অঙ্গটি বাদ দেয়া যেতে পারে। প্রকল্পে বিআরডিবি’র ১১টি বিভিন্ন ধরনের ভবন সম্প্রসারণ এবং ৫৫টি ভবন মেরামতের প্রস্তাব করা হয়েছে। সাধারণত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিদ্যমান অবকাঠামো মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না। অন্যদিকে প্রস্তাবিত প্রকল্পের ধরনের সঙ্গে নির্মাণকাজ অসামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে মেরামত ও সম্প্রসারণ কাজ বিআরডিবির নিজস্ব রাজস্ব বাজেটেই করা সমীচীন হবে। আরও বলা হয়েছে, ৭১ হাজার ৮৪০ জন সুফলভোগীকে আয়বর্ধক প্রশিক্ষণের প্রস্তাব রয়েছে। কিন্তু আইএমইডি’র মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুযায়ী সমাপ্ত হওয়া প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পে এ এলাকায় ৬০ হাজার জন সুফলভোগীকে আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। সেই প্রশিক্ষণের গুণগতমান আশানুরূপ হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া যুব উন্নয়ন অধিদফতর, মহিলাবিষয়ক অধিদফতর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো ইত্যাদি সংস্থা নিয়মিত কার্যক্রমের আওতায় দেশব্যাপী আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। ফলে প্রস্তাবিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সঙ্গে উল্লিখিত কার্যক্রমের দ্বৈততার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এ প্রকল্প থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাদ দেয়া সমীচীন হবে। ডিপিপিতে প্রকল্প পরিচালকসহ প্রকল্প পরিচালনার সঙ্গে জড়িত বিআরডিবির বিভিন্ন পর্যায়ের জনবলের জন্য প্রতিমাসে ৩-৭ হাজার টাকা পর্যন্ত সম্মানীর প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকার নির্ধারিত বেতন-ভাতার বাইরে এ ধরনের কোনো সম্মানী প্রদানের বিধান নেই। এটি বাদ দিতে হবে। এছাড়া ইউনিয়ন ও স্কুল নির্বাচন কমিটি ও কিশোরী নির্বাচন কমিটি এবং এ বাবদ ব্যয় প্রস্তাব বাদ দিতে হবে। ডিপিপিতে ৫৯টি মোটরসাইকেল কেনার জন্য ৮৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং একটি যানবাহন ভাড়ার জন্য ৭৮ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই এলাকায় বাস্তবায়িত প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পে দুটি জিপ, একটি মাইক্রোবাস, তিনটি ডাবল কেবিন পিকআপ ও ৭১টি মোটরসাইকেল দেয়া হয়। সুতরাং সরকারি অর্থ সাশ্রয়ে প্রস্তাবিত প্রকল্পে নতুন করে যানবাহন দেয়া যৌক্তিক হবে না।

কার্যপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২৫৪টি ওয়ার্কশপ বা সেমিনার বাবদ ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা, অভ্যন্তরীণ ভ্রমণে ৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা, অভ্যন্তরীণ বদলি ব্যয় ৩০ লাখ টাকা, পাঁচজনের অতিরিক্ত কাজের ভাতা ২৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং যানবাহনের জ্বালানি বাবদ ১ কোটি ৮ লাখ টাকার প্রস্তাব রয়েছে। সেই সঙ্গে মুদ্রণ ও বাঁধাই বাবদ ৫০ লাখ টাকা, অন্যান্য মনিহারি বাবদ ৯৯ লাখ টাকা, মধ্যবর্তী মূল্যায়নের জন্য ৩০ লাখ টাকাসহ সরবরাহ ও সেবা খাতে মোট ৬৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের অর্থ সাশ্রয়ে এ খাতে আবশ্যক অঙ্গের পরিমাণ ও ব্যয় ন্যূনতম পর্যায়ে নির্ধারণ এবং অনাবশ্যক অঙ্গসমুহ বাদ দেয়া প্রয়োজন।

পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) জাকির হোসেন আকন্দ সম্প্রতি  বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় অহেতুক এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের বিষয়ে আমরা অনেক কঠোর। কোভিড-১৯ মহামারী পরিস্থিতিতে একেবারেই প্রয়োজন না হলে অনেক অঙ্গের ব্যয় বাদ দেয়া বা কমানোর সুপারিশ দেয়া হচ্ছে।

সুত্র: যুগান্তর