সুকান্ত জয়ন্তীতে উদীচী-বরিশাল নাটক

প্রকাশ: 14 August, 2020 6:33 : PM

জীবনমুখী কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য মাত্র ২১ বছর বেঁচে ছিলেন। তাঁর লেখাখেখির সময় মাত্র ৬ থেকে ৭ বছর। এই অল্প সময় তিনি তাঁর লেখনিতে কেবল মানুষ আর মানুষের জয়গানের কথা বলে গেছেন। নিপিড়িত, নির্যাতিত মানুষের মুক্তির আকঙ্খাই কবি সুকান্তকে তাড়িয়ে বেড়াত। সুকান্তর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বরিশালে এসব কথা বলেন বক্তারা।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় উদীচী ভবনে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে কবি সুকান্তর জন্মদিনে আলোনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উদীচী ও বরিশাল নাটক।

বক্তারা বলেন, কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য মানুষের বাসোপযোগী একটি বিশ^ কল্পনা করেছেন। তাঁর সমস্ত সাহিত্যকর্মে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের আর্তনাদের কথা ফুটে উঠেছে। তিনি কবিতায় লিখেছেন, ‘হে মহাজীবন আর কাব্য নয়, এবার কঠিন কঠোর গদ্যে হানো… গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো’। আবার লিখেছেন, ‘হে মহামানব একবার এসো ফিরে, শুধু একবার চোখ মেল এই গ্রাম নগরের ভীড়ে’। আবার ধান কাটার আনন্দ কিভাাবে নিরানন্দে রূপ নেয় ত সহজ করে তুলে ধরেছেন ‘এই নবান্নে এই হেমন্তে, হেই কাটা হবে ধান’। এই কবিতায়। আবার প্রচ- শিতে কষ্ট পাওয়া শিশুর জন্য সূর্যের কাছে আহ্বান জানিয়ে লিখেেেছন, ‘হে সূর্য শিতের সূর্য, হিম শিতল সুদীর্ঘ রাত, তোমার প্রতিক্ষায় আমরা থাকি, যেমন প্রতিক্ষা করে থাকে, কৃষকের চঞ্চল চোখ’। এমন একজন কবি মাত্র ৬-৭ বছর তাঁর কবি প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পেরেছিলেন। ১৯৪৭ সালের ১৩ মে মাত্র ২১ বছর বয়সে দুরাগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

সুকান্ত জয়ন্তীতে তাঁর জীবনকর্ম নিয়ে আলোচনা করেন, বাংলাশে আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সভাপতিম-লীর সদস্য ও বরিশাল নাটকের সাবেক সভাপতি আজমল হোসেন লাবু, উদীচী সদস্য ও খেলাঘর বরিশাল জেলা সভাপতি কবি নজমুল হোসেন আকাশ, বরিশাল নাটকের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দিন কামাল, উদীচী বরিশালের সাধারণ সম্পাদক স্নেহাংশু বিশ্বাস আবৃত্তি করেন বরিশাল নাটকের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সঞ্জয় সাহা।

সঙ্গীত পরিবেশন করেন, জোবায়ের হোসেন শাহেদ, আশরাফুর রহমান সাগর, মিঠুন রায়, কমল ঘোষ, শামসুন্নাহার নীপা, তাহমিনা দুলারী, সুকান্ত অপিসহ উদীচী কর্মীরা।