সংখ্যালঘুদের মুর্তিমান আতংক এমপি জগলুলঃ সুন্দরী কিশোরীরা হত ধর্ষণের শিকার

প্রকাশ: 24 June, 2019 12:15 : PM

উৎপল দাস :একজন সংসদ সদস্য হয়েও শুধু আলোচনায় থাকার জন্য পরিমিতিবোধ হারিয়ে নিজেকে হাস্যকর বানিয়েছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দার। এমপিদের মধ্যে সবচেয়ে মানবিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ব্যর্থ চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন তিনি। সব সময়ই কথিত মানবিক কাজ করে তিনি আলোচনায় থাকতে চান। মূলত, অবৈধ আয় দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন মানবতার নামে এসব লোক দেখানো (ভণ্ডামী) কার্যক্রম। এমনকি ঘরে বউ রেখে সংখ্যালঘু হিন্দু সুন্দরী কিশোরী মেয়েদের ধর্ষণ করে অবৈধ সন্তান জন্ম দেয়ার মতো অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এরকম তথ্যই পাওয়া যাচ্ছে। জগলুল হায়দারের নানা দুর্নীতি, অপকর্ম নিয়ে ভোরের পাতার ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ থাকছে চতুর্থ পর্ব।

সুপ্রিয়া মণ্ডল, ২০০৮ সালে অনিন্দ্য সুন্দরী মেয়েটির বয়স মাত্র ১৪ বছর। যৌবনে পা দেয়ার আগেই তার দিকে কুনজর পরে সাতক্ষীরা-৪ আসনের বর্তমান সরকার দলীয় এমপি জগলুল হায়দারের। তখন বিতর্কিত এই এমপি শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। ইউপি চেয়ারম্যান হওয়ায় ক্ষমতার দাপটে শামনগরে তখন সংখ্যালঘু হিন্দুদের টেকা দায়। নিজের ও সহযোগীদের লালসার শিকার বানাতে কিশোরী সুপ্রিয়া মণ্ডলকে অপহরণ করে জগলুল বাহিনী। অপহরণের পর ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয়নি বর্তমানে বিতর্কিত এমপি জগলুল হায়দার ও তার সহযোগীরা। মেয়টিকে কয়রা উপজেলার এক সন্ত্রাসীর কাছে বিক্রি করেও দেয়। এঘটনায় সুপ্রিয়া মণ্ডলের মা আমেলা রানী মণ্ডল বাদী হয়ে শ্যামনগর থানায় ২০০৮ সালের মার্চ মাসের ২৮ তারিখ নারী শিশু নির্যাতন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এ ৭/৩০ ধারায় একটি মামলা করেন। মামলা নং ২৯। ওই মামলায় ১৫ জন আসামির মধ্যে ১ নম্বর আসামি ছিলেন বর্তমান সাতক্ষীরা ৪ আসনের এমপি জগলুল হায়দার।

পরবর্তীতে পুলিশের ওপর প্রভাবখাটিয়ে জগলুল হায়দার চার্জশীট থেকে নিজের নাম কাটিয়ে নিলেও আদালতে ১৬৪ ধারায় ধর্ষিতা সুপ্রিয়া মণ্ডল তার জবানবন্দিতে সরাসরি উল্লেখ করেছেন, জগলুল হায়দার ও তার সহযোগীরা তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে। ১৫ এপ্রিল ২০০৮ সালে সাতক্ষীরা বিচারিক আদালতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকারিয়া হোসেনের সামনে দেয়া লিখিত জবানবন্দিতে আরো বলেন, অপহরণের পর থেকেই জগলুল হায়দার ও তার আপন ভাই জুহুরুল হায়দার (বাবু), জগলুলের ঘনিষ্ঠজন আকবর কবীর, আশরাফ ও আব্দুল খালেক তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করতো। কয়রা থেকে উদ্ধারের আগে জগলুল হায়দার একটা নীল কাগজে স্বাক্ষর করতে বলে। ওই অবস্থায় জগলুল হায়দার ধর্ষণ করে। জবানবন্দির প্রমাণপত্রটি ভোরের পাতার কাছে সংরক্ষিত আছে।

মামলার বাদী আমেলা রানী মণ্ডল শনিবার এ প্রতিবেদককে টেলিফোনে বলেন, জগলুল হায়দারের মতো হায়েনা বাংলাদেশে আর নেই। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিরা যেমন মা-বোনোর ইজ্জত নিয়েছিল; ক্ষমতার দাপটে নারীলোভী জগলুল ঘরে সুন্দরী বউ রেখেও এলাকার সুন্দরী হিন্দু মেয়েদের ধর্ষণ করেছে। শুধু ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয়নি জগলুল হায়দার। সুন্দরবনের ডাকাত এই জনপ্রতিনিধি হিন্দুদের ওপর এমন নির্যাতন করছে যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানালেও তাদের হাতে অভিযোগগুলো পৌঁছাতে দেয়নি। অবৈধ টাকা খরচ করে জগলুল হায়দার বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, জগলুল হায়দারের বিরুদ্ধে সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করলে সবই বেরিয়ে আসবে। অনেক অপকর্ম এখনো চালিয়ে যাচ্ছে।

ধর্ষিতা সুপ্রিয়া মণ্ডল এখন কেমন আছেন, কোথায় আছেন এমন প্রশ্নের জবাবে হতভাগ্য মা অমেলা রানী মণ্ডল কাঁদতে কাঁদতে বলেন, মেয়েটাকে ভারতে পাঠিয়ে দিয়েছি। আমার স্বামী মনোরঞ্জন মণ্ডলও কয়েকদিন আগে এমপি জগলুলের অত্যাচার সইতে না পেরে মারা গেছে। এখন আমার বসতভিটার দিকে নজর দিয়েছে জগলুল বাহিনী। প্রতিদিনই জগলুল হায়দারের লোকজন এসে প্রাণে বাঁচতে চাইলে ভারতে চলে যা বলে হুমকি দিচ্ছে। প্রাণনাশের হুমকি উপেক্ষা করেও আমি শ্যামনগরে পরে আছি জগলুল হায়দারের মতো দানবের পতন দেখার জন্য। অমেলা আরো বলেন, আমি মরার ভয় করি না। সৃষ্টিকর্তা যেভাবে চাইবেন, সেভাবেই আমাকে মরতে হবে। তাই আমার মেয়ের মতো আরো অনেক মেয়ের জীবন নষ্ট করা জগলুল হায়দারের বরিুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আকুল আকুতি জানান।

শ্যামনগরের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, কালমেঘা এলাকার দিনেশ ঘায়েনের মেয়ে সুনিতা রানীকে নিয়মিত ধর্ষণ করে গর্ভবতী বানিয়ে ফেলেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে জগলুল মেয়েটিকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেয়। কিন্তু স্থানীয়দের সহায়তায় সুনিতার গর্ভে জগলুলের অবৈধ কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। সেই সন্তানের প্রকৃত পিতা কে তা পরিষ্কার হওয়ার জন্য ডিএনএ টেস্ট করানোর দাবি জানানো হলে, সুকৌশলে প্বার্শবর্তী গ্রামের সন্তোষের ছেলে নিমাই রায়কে ফাঁসিয়ে দেন জগলুল হায়দার। এ অপমান সইতে না পেরে নিমাই আত্নহত্যা করে। এমনকি সুনিতা যেন ভবিষ্যতে জগলুল হায়দারের বিরুদ্ধে অপকর্মের সাক্ষী দিতে না পারে, সে কারণে দুনিয়া থেকে সুকৌশলে পৃথিবী থেকেই সরিয়ে দেয়া হয়। সুনিতা এবং তার ফুটফুটে কন্যা সন্তানকে হত্যা করে জগলুল বাহিনীর লোকজন। এমন অভিযোগ শ্যামনগরের অধিকাংশ হিন্দু পরিবারের পক্ষ থেকেই পাওয়া গেছে।
জগলুল বাহিনীর অত্যাচার সইতে না পেরে শুধু ঘরের স্ত্রী কন্যাদের ইজ্জত রক্ষা করতেই কমপক্ষে ২৫ টি হিন্দু সম্ভ্রান্ত পরিবার দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জগলুল হায়দারের ব্যবহৃত দুইটি ফোনে চেষ্টা করা হলেও বন্ধ পাওয়া গেছে।

সূত্র: ভোরের পাতা।